মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কাশিয়ানী গিরীশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়

কাশিয়ানী গিরীশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। জমিদার হিসেবে খ্যাত স্বর্গীয় সর্বানন্দ সেনের পুত্র স্বর্গীয় গিরীশ চন্দ্র সেন। পিতা সর্বানন্দ সেন পুত্রকে কলকাতায় রেখে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন। ওকালতি পাশ করে গিরীশ চন্দ্র কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করা শুরু করেন এবং পিতার অবর্তমানে জমিদারী তদারকী করতেন। প্রজাসাধারণের কথা ভেবে নিজের পরিবার পরিজনদের সাথে নিয়ে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন মনের মধ্যেতিনি লালন করতেন। লালিত স্বপ্নকে  বাস্তবে রূপ দেন ১৯০২ সালে। প্রতিষ্ঠা করেন কাশিয়ানী গিরীশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টি কাশিয়ানী জি.সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় নামে সমধিক খ্যাত। পদ্মার শাখা নদী মধুমতি; যা এককালে পদ্মার মতই প্রমত্তা ছিল। সে মধুমতি হতে চন্দনা-বারাশিয়া নামের এক শীর্ণকায় ছোট নদীর উৎপত্তি। কাশয়ানী গিরীশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শোভা বর্ধনে নদীটির ভূমিকা ছিল অবর্ণনীয়। নদীবক্ষে বিরহ-মিলনের ভাটিয়ালী সুর আর ছোট ছোট তরঙ্গ দোলায় ভেসে আসা হিমেল হাওয়ায় প্রাণ জুড়িয়েছে তীরস্থ এই প্রতিষ্ঠানটি। কালের স্রোতধারায় প্রতিষ্ঠানটি হয়ে ওঠে কাশিয়ানীবাসীর মধ্যমনি। প্রতিষ্ঠা লগ্নে E-প্যাটার্ণের টিনের ঘরটি সরকারী ও স্থানীয় অনুদানে তখন পূর্ণতা পেলেও বর্তমানে এটি কালের সাক্ষী হিসেবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। প্রসার লাভ করেছে আরও একাধিক পাকা ভবন। আধুনিক শিক্ষার নব্য চেতনায় বলীয়ান এ প্রতিষ্ঠান। জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে সদা ব্রত নিয়ে কাজ করে চলেছেন শিক্ষকেরা। সাধারণ শিক্ষার পাশপাশি কারিগরী শিক্ষারও শিক্ষাদান চলছে। নয়শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণোচ্ছ্বল এই প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষক একুশ জন। বিশ্বায়নের স্রোতধারায় সমান তালে এগিয়ে চলেছে প্রতিষ্ঠানটির কৃতিত্ব। শিক্ষকদের সুনিপুন কর্মদক্ষতা ও প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গী গঠনে প্রেরণা যুগিয়েছে সর্বক্ষণ। আর তারই ফল হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের আলোয় আলোকিত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অবস্থান করছেন অনেক খ্যাতিমান গুণীজন। সামাজিক কর্মকান্ডে রয়েছে তাঁদের অনস্বীকার্য অবদান। উল্লেখ করা যেতে পারে- বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের সচিব হিসেবে জি.সি বিশ্বাস, যুগ্ম সচিব হিসেবে মোঃ ইদ্রিস মিয়া, বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিঃ লুৎফর রহমান, ডাঃ শরফুদ্দীন আহম্মদ, মহাসচিব,বি.এম.এ, শাহ মোঃ আব্দুল হাই(হাসান), মহাব্যবস্থাপক(অবঃ), অগ্রণী ব্যাংক, ডাঃ এ এস এম এ রায়হান, সহযোগী অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি, শিকদার বদিউজ্জামান জামান, প্রতিষ্ঠাতা, মালা শহীদ আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদালয়, এ্যাডভোকেট এম এ কামরুল হাসান খান আসলাম প্রমূখের নাম। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং সামাজিক সম্পর্কের অটুট বন্ধনে প্রতিষ্ঠানটি সদা ব্যস্ত, কর্মদক্ষতায় সুনাম রেখে চলেছে অক্ষুন্ন। সোনালী দিনের সবুজ শ্যামলীমায় প্রতিষ্ঠানটি আজও গভীর চিত্তে স্মরণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান (শহীদ হিমায়েত)কে। যিনি কাশিয়ানী জি.সি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্বদেশ প্রেমের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েছিলেন। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভাটিয়াপাড়া পাকমুক্ত করার যুদ্ধে। শ্রদ্ধায় আজও স্নাত আলোকবর্তিকার সেই মহীয়ান পুরুষ স্বর্গীয় গিরীশ চন্দ্র সেন।  গৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে তাঁর লালিত স্বপ্নের পুরাকীর্তি কাশিয়ানী গিরীশ চন্দ্র পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।

কিভাবে যাওয়া যায়:

উপজেলা পরিষদ হতে ৩০০ মিটার পশ্চিমে কাশিয়ানী বাজার সংলগ্ন