মেনু নির্বাচন করুন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্থান ভাটিয়াপাড়া (ভাটিয়াপাড়ার যুদ্ধ)

১৯ অথবা ২০ এপ্রিল, ১৯৭১ সাল। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এসে ঘাটি গাড়ে ভাটিয়াপাড়া ওয়ারলেস স্টেশনে। জনমনে দেখা দেয় আতঙ্ক। মুহুর্তের মধ্যে খবর চলে যায় কাশিয়ানীর হেড কোয়াটার ওড়াকান্দিতে, রাতইল সাবহেড কোয়াটার ক্যাম্পে। পাকিস্তানী সেনাদের পরাস্ত করতে সকল প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্প। শুরু হয় বিচ্ছিন্নভাবে খন্ড খন্ড যুদ্ধ। রাতের অন্ধকারে গ্রামে গ্রামে চলতে থাকে প্রশিক্ষণ। ক্যাপ্টেন নুরুদ্ধাহারের নেতৃত্বে নায়েবুন্নেছা ইনস্টিটিউটে খোলা হয়  প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। প্রশিক্ষিত এলাকাবাসী দেশ রক্ষার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এদিকে পাকিস্তানীদেরও নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ থেমে নেই। পকিস্তানী সেনারা ইতনা গ্রাম আক্রমণ করে ২ জনকে হত্যা করে, জ্বালিয়ে দেয় ঘর-বাড়ি। প্লেন থেকে মাঝে মাঝে আক্রমণ করে ভাটিয়াপাড়া ও বুথপাশা গ্রামে। মুক্তিবাহিনীর সাথে পাকবাহিনীর যুদ্ধ হয় কালনা ঘাটে। যুদ্ধে পাকবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের ছাবিবর খানসহ দুজন পাকিস্তানী মিলিশিয়াকে রাতইল সাব ক্যাম্পে ভাটিয়াপাড়া পাকসেনামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বন্দী করে রাখা হয়। প্রায়ই বিচ্ছিন্নভাবে আক্রমণ চলতে থাকে পাক বাহিনীর ওপর। এদিকে নবম সেক্টর কমান্ডার মেজর হুদা রাতইল ক্যাম্পে আসেন এবং তাঁর নেতৃত্বে খন্ড খন্ড যুদ্ধ হয় পাক সেনাদের সাথে। আগস্ট মাসে ওড়াকান্দি ও রাতইল ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে পাক বাহিনীর গানবোট আক্রমণ করে। এ যুদ্ধে ১৬ থেকে ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয় এবং পাকসেনা মারা যায় ৩৭ জন। সেপ্টেমবর তেকে অক্টোবরের প্রথম দিকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা রাতইল ক্যাম্পে আসতে শুরু করে। যুদ্ধ চলতে থাকে পাকসেনাদের সাথে। এরই মধ্যে দেশ স্বাধীনের ঘোষণা আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয়। কিন্তু ভাটিয়াপাড়া তখনও শত্রুমুক্ত হয়নি। নির্যাতন নিপীড়ণ চলতেই থাকে। ১৮ ডিসেমবর মেজর হুদা, সাইফ উদ্দীন মোহাম্মদ, ইসমত কাদের গামা, জগলুল কাদের জুলু, বশির মোহাম্মদ, ক্যাপ্টেন বাবুলসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা রাতইল ক্যাম্পে আটককৃত ছাবিবর খান ও দুই মিলিশিয়াকে সাথে করে ভাটিয়াপাড়া সেনা ক্যাম্পে আক্রমণ চালান হয়। শুরু হয় প্রচন্ড যুদ্ধ। এরই মধ্যে জেনারেল মঞ্জু ভারতীয় সেনাবাহিনী নিয়ে ভাটিয়াপাড়া পৌঁছায়। বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ ও চাপের মুখে অবশেষে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পন করতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় ভাটিয়াপাড়া। স্বাধীনতার জয়গান উচ্চারিত হয় আকাশে বাতাসে।

কিভাবে যাওয়া যায়:

উপজেলা সদর হতে দক্ষিণ দিকে ০১ কিঃ মিঃ অগ্রসর হয়ে ভাটিয়াপাড়া চৌরাস্তা ওখান থেকে সামান্য অগ্রসর হলেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্থান


Share with :

Facebook Twitter